Skip to main content

Posts

'স্বদেশপ্রেম' অথবা 'জাতীয় জীবনে দেশপ্রেমের গুরুত্ব' নিয়ে প্রবন্ধ রচনা কর

এ প্রবন্ধের অনুসরণে লেখা যায়, দেশপ্রেম, স্বদেশপ্রেম, স্বদেশপ্রেম ও বিশ্বপ্রেম, অথবা, জাতীয় জীবনে দেশপ্রেমের গুরুত্ব। 'স্বদেশপ্রেম' ভূমিকা : “সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে সার্থক জনম, মা গো, তোমায় ভালোবেসে।"  - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জননী যেমন সন্তানের কাছে আজীবন পূজনীয়, দেশও তেমনি মানুষের কাছে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় মোহনীয়। তাই জন্মলগ্ন থেকে মায়ের মতো দেশের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও মমত্ববোধ গড়ে ওঠে। স্বদেশ যত ক্ষুদ্র, দুর্বল বা সমস্যাপীড়িত হোক না কেন, প্রতিটি মানুষের কাছে তার দেশ সকল দেশের সেরা। স্বদেশের মানুষ, তার প্রকৃতি, প্রাণিকুল, প্রতিটি ধূলিকণা দেশপ্রেমিকের কাছে পরম পবিত্র। দেশমাতৃকার মৃন্ময়ী মূর্তি শুধু কাদা-মাটি-জলে নির্মিত প্রতিমামাত্রই নয়, হৃদয়ের নিবিড় ভালোবাসায় এবং গভীর মমত্ববোধে সে অন্তরের অন্তস্তলে পরিগ্রহ করে চির আরাধ্য চিন্ময়ী মূর্তি। দেশপ্রেমিক মানুষ তাঁর ব্যক্তিজীবনের প্রতিটি অর্জনে স্বীকার করেন দেশের অবদান। স্বদেশের স্বার্থ রক্ষায় তাঁরা যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে কুণ্ঠাবোধ করেন না। এমনকি দেশের জন্য জীবন বিলিয়ে দিতেও তাঁরা পিছপা হন না। দেশপ্রেমের...

'অধ্যবসায়' বা 'অধ্যবসায় ও ছাত্রজীবন' অথবা 'অধ্যবসায়ের গুরুত্ব' নিয়ে প্রবন্ধ রচনা কর

এই প্রবন্ধের অনুসরণে লেখা যায়, অধ্যবসায় অধ্যবসায় ও ছাত্রজীবন, অথবা, মানবজীবনে অধ্যবসায়ের গুরুত্ব। 'অধ্যবসায়' পারিব না এ কথাটি বলিও না আর কেন পারিবে না তাহা ভাব একবার, পাঁচ জনে পারে যাহা, তুমিও পারিবে তাহা পার কি না পার কর যতন আবার একবারে না পারিলে দেখ শতবার। - কালিপ্রসন্ন ঘোষ ভূমিকা :  কোনো কাজে সফলতা লাভ করার জন্য বারবার চেষ্টার নামই অধ্যবসায়। মানুষ আজ পর্যন্ত যতগুলো অভ্যাস আয়ত্ত করেছে তার মধ্যে অধ্যবসায়ই শ্রেষ্ঠ। এর বলে মানুষ অসাধ্যকে সাধন করতে পারে, অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে। জীবনের সব ক্ষেত্রেই অধ্যবসায়ের প্রয়োজন। অধ্যবসায় ছাড়া কঠিন কাজে সফলতা লাভ করা যায় না। শত বাধাবিঘ্নের সাথে লড়াই করে যে জয়ী হতে পারে, সে-ই জীবনে উন্নতি লাভ করতে পারে। সুতরাং মানুষের উন্নতির জন্য সবচেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য সোপান হচ্ছে অধ্যবসায়। অধ্যবসায় :  কোনো কাজে সফলতা লাভের জন্য বারবার চেষ্টা করার নাম অধ্যবসায়। অধ্যবসায় একটি শ্রেষ্ঠ গুণ। প্রকৃতপক্ষে অধ্যবসায় বলতে মানব চরিত্রের কতকগুলো বৈশিষ্ট্যের সমাবেশ বোঝায়। উদ্যোগ, পরিশ্রম, আন্তরিকতা, মনোবল প্রভৃতি গুণ একত্রিত হয়েই অধ্যবসায়ের পরিপ...

সাম্প্রতিক বন্যায় তোমাদের এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামতের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে একখানা দরখাস্ত

সাম্প্রতিক বন্যায় তোমাদের এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামতের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে একখানা দরখাস্ত। ২৮.০৭. ২০১৯  নির্বাহী প্রকৌশলী, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, ফেনী বিষয় : বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ফেনী-চট্টগ্রাম সড়কটি মেরামতের জন্য আবেদন। জনাব, সবিনয় নিবেদন এই যে, ফেনী-চট্টগ্রাম সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; জেলার সাথে হাইমচরের একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম এটি। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহন এ রাস্তায় চলাচল করে। সাম্প্রতিক বন্যায় এ সড়কটি এমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে যানবাহন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। মানুষজন বহু কষ্টে পায়ে হেঁটে কাছে পিঠে যেতে পারলেও যানবাহনের চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জেলা শহরে এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে হাইমচরবাসী বহু সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। অতএব, জনাবের নিকট আবেদন, ফেনী-চট্টগ্রাম সড়কটি অতি শীঘ্র মেরামত করে হাইমচরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবের ব্যবস্থা করলে আমরা চিরকৃতজ্ঞ থাকব। বিনীত নিবেদক এলাকাবাসীর পক্ষে কিশোর  ফেনী

"দন্ডিতের সাথে দণ্ডদাতা কাঁদে যবে সমান আঘাতে সর্বশ্রেষ্ঠ সে বিচার" - সারমর্ম লিখ

"দন্ডিতের সাথে দণ্ডদাতা কাঁদে যবে  সমান আঘাতে সর্বশ্রেষ্ঠ সে বিচার।  যার তরে প্রাণ ব্যথা নাহি পায় কোনো, তারে দণ্ড দান  প্রবলের অত্যাচার। যে দণ্ড বেদনা  পুত্রেরে পার না দিতে, সে কারেও দিও না।  যে তোtমার পুত্র নহে, তারও পিতা আছে,  মহা অপরাধী হবে তুমি তার কাছে।" সারমর্ম :  অপরাধ প্রবণতা মানুষের জন্মগত প্রবৃত্তি নয়। তাই কোনো অপরাধীকে শাস্তি দেয়ার পূর্বে বিচারককে আন্তরিক ও সহমর্মী হওয়া উচিত। যে বিচারক দণ্ড দিতে গিয়ে অপরাধীর প্রতি সহানুভূতিশীল হন এবং নিজেকে দণ্ডিত ব্যক্তির আপনজন ভেবে ব্যথিত হন তাঁর বিচারই হবে সর্বশ্রেষ্ঠ বিচার।

"যে নদী হারায়ে স্রোত চলিতে না পারে, সহস্র শৈবাল দাম বাঁধে আসি তারে" - সারমর্ম লিখ

"যে নদী হারায়ে স্রোত চলিতে না পারে,  সহস্র শৈবাল দাম বাঁধে আসি তারে।  যে জাতি জীবনহারা অচল অসার পদে পদে বাঁধে তারে জীর্ণ লোকাচার।  সর্বজন সর্বক্ষণ চলে যেই পথে, তৃণ-গুল্ম সেথা নাহি জন্মে কোন মতে।  যে জাতি চলে না কভু তারি পথ ধরে, তন্ত্রমন্ত্র সংহিতায় চরণ না সরে।" সারমর্ম ( i ) :  স্রোতবিহীন নদীতে যেমন শেওলা জন্মে নদীর গতিপথকে স্তব্ধ করে দেয় ঠিক তেমনি কোনো জাতির চেতনাবোধ লোপ পেলেও তার অস্তিত্ব অসার হয়ে পড়ে। সভ্যতার প্রেক্ষাপটে গতিশীল জাতিই উন্নতির চরম শিখরে আরোহণ করে। আর অসার জাতি প্রতিটি ক্ষেত্রে বিপথগামী, বিধ্বস্ত এবং অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ে। সারমর্ম ( ii ) :  গতিতে জীবন, স্থিতিতে মরণ। প্রত্যেক জাতির একটি নিজস্ব গতিধারা আছে। কোনো কারণে জাতি তার গতিশীলতা হারিয়ে ফেললে স্রোতহীন নদীর মতোই সে অচল, অসাঢ় ও প্রাণশূন্য হয়ে পড়ে। কুসংস্কার সে জাতিকে করে গ্রাস। 

"হউক সে মহাজ্ঞানী, মহা ধনবান, হউক প্রতিভা তার অক্ষুণ্ণ উজ্জ্বল" - সারমর্ম লিখ

"হউক সে মহাজ্ঞানী, মহা ধনবান, হউক প্রতিভা তার অক্ষুণ্ণ উজ্জ্বল।  হউক তাহার বাস রম্য হর্ম্য মাঝে, কিন্তু যে সাধেনি কভু জন্মভূমি হিত, স্বজাতির সেবা যে করে নি কিঞ্চিৎ অসীম ক্ষমতা তার অতুল সম্মান। হউক বৈভব তার সমসিন্ধু জল, থাকুক সে মণিময় মহামূল্য সাজে। জানাও সে নরাধমে জানাও সত্বর, অতীব ঘৃণিত সে পাষন্ড বর্বর।" সারমর্ম ( i ): জাতির উপকারের মধ্যেই সকল প্রতিভার সাফল্য নিহিত। মানুষ প্রচুর জ্ঞান, বিপুল অর্থ ও শক্তির অধিকারী হতে পারে অথবা মূল্যবান সাজসজ্জা পরিধান এবং সুন্দর বাসস্থানে বসবাসের সুযোগ পেতে পারে। কিন্তু জাতির সেবায় যে আত্মনিয়োগ করেনি, সে যতই জ্ঞানী, বিত্তবান ও ক্ষমতাশালী হোক না কেন, সে বর্বর ছাড়া আর কিছু নয়। সকলের কাছেই সে ঘৃণার পাত্র। সারমর্ম ( ii ) : মানুষ মহাজ্ঞান, বিপুল ধন-সম্পদ ও শক্তির অধিকারী হতে পারে; কিন্তু জাতির সেবায় যদি সে নিজেকে নিয়োজিত না করে, তবে সে নরাধম ও বর্বর বলে বিবেচিত হয়। নিজ জাতির কল্যাণের মধ্যেই সকল প্রতিভার সাফল্য নিহিত থাকে।

“বসুমতি, কেন তুমি এতই কৃপণা?" - সারমর্ম লিখ

"বসুমতি, কেন তুমি এতই কৃপণা?  কত খোঁড়াখুঁড়ি করি পাই শস্য কণা।  দিতে যদি হয় দে মা প্রসন্ন সহাস,  কেন এ মাথার ঘাম পায়েতে বহাস? বিনা চাষে শস্য দিলে কি তাহাতে ক্ষতি?” শুনিয়া ঈষৎ হাসি কহেন বসুমতি—  “আমার গৌরব তাহে সামান্যই বাড়ে, তোমার গৌরব তাহে একবারে ছাড়ে।" সারমর্ম (i):  সুকঠিন শ্রম ও কর্মসাধনার মধ্য দিয়ে জগতে সাফল্যের গৌরব ও জয়মাল্য লাভ করতে হয়। আর অলস ব্যক্তিরা থাকে পরমুখাপেক্ষী হয়ে। সে কিছু না করে সৃষ্টি, না পায় তুষ্টি। কারণ করুণার দান গ্রহণে কোনো গৌরব নেই। বরং শ্রমের মাধ্যমে কিছু অর্জনের মধ্যেই যথার্থ গৌরব নিহিত থাকে। সারমর্ম (ii):  পরিশ্রম দ্বারা সম্পদ অর্জনে গৌরব আছে। পরের ওপর নির্ভর করা দুর্বলতা ও কাপুরুষতার শামিল। যাদের আত্মশক্তি নেই তারাই পরের সাহায্য প্রত্যাশা করে। মানুষ পরিশ্রমের মাধ্যমে জীবিকা অর্জন করে। শ্রমের মর্যাদা লাভেই সত্যিকারের গৌরব নিহিত। পরের দান গ্রহণে কোনো আত্মতৃপ্তি নেই।

'দৈন্য যদি আসে, আসুক, লজ্জা কিবা তাহে মাথা উঁচু রাখিস' - সারমর্ম লিখ

দৈন্য যদি আসে, আসুক, লজ্জা কিবা তাহে  মাথা উঁচু রাখিস।  সুখের সাথী মুখের পানে, যদি না চাহে  ধৈর্য ধরে থাকিস  রুদ্ররূপে তীব্র দুঃখ যদি আসে নেমে  বুক ফুলিয়ে দাঁড়াস।  আকাশ যদি বজ্র নিয়ে মাথায় পড়ে ভেঙে  ঊর্ধ্বে দু'হাত বাড়াস। সারমর্ম (i):  জীবনে দুঃখকষ্ট, ব্যথাবেদনা, জরামৃত্যু আছে। দুঃখের দিনে কেউ সঙ্গী হতে চায় না, তবে হতাশ হলে চলবে না। সব সময়ের সাথি ও সহায় যিনি, তাঁর সাহায্য চাইলেই হবে। সারমর্ম (ii):  কোনো অবস্থাতেই মানুষের ভেঙ্গে পড়া উচিত নয়। জীবন পথে দুঃখ দৈন্য আসতে পারে, দুঃসময়ে বন্ধু ত্যাগ করতে পারে, বজ্রপাতের ন্যায় জীবনে আকস্মিক মহাসংকট দেখা দিতে পারে। কিন্তু তাতে ধৈর্যহারা হলে চলবে না; বরং সাহসে বুক বেঁধে সকল প্রতিকূলতাকে প্রতিরোধ করে জীবন সংগ্রামে এগিয়ে যেতে হবে।

"নিন্দুকেরে বাসি আমি সবার চেয়ে ভালো" - সারমর্ম লিখ

নিন্দুকেরে বাসি আমি সবার চেয়ে ভালো,  যুগ জনমের বন্ধু আমার আঁধার ঘরের আলো।  সবাই মোরে ছাড়তে পারে বন্ধু যারা আছে,  নিন্দুক সে ছায়ার মত থাকবে পাছে পাছে।  বিশ্বজনে নিঃস্ব করে, পবিত্রতা আনে,  সাধকজনে নিস্তারিতে তার মত কে জানে?  বিনামূল্যে ময়লা ধুয়ে করে পরিষ্কার,  বিশ্বমাঝে এমন দয়াল মিলবে কোথা আর?  নিন্দুক সে বেঁচে থাকুক বিশ্বহিতের তরে,  আমার আশা পূর্ণ হবে তাহার কৃপা ভরে। সারমর্ম (i):  নিন্দুক সর্বদা মানুষের নিন্দা করে বেড়ায়। তারা বিনামূল্যে মানুষের ভুল-ত্রুটি দেখিয়ে দেয়। যার ফলে মানুষের ভুল-ত্রুটি সংশোধন হয়। নিন্দুকের নিন্দাবাণী মানুষকে নিজের সম্পর্কে সচেতন করে এবং ভালো মানুষ রূপে গড়ে উঠতে সাহায্য করে। তাই নিন্দুক মানুষের পরম বন্ধু। সারমর্ম (ii):  নিন্দুক অপরের কুৎসা রটনা করে ঘুরে বেড়ায়। এটাই তার স্বভাব। তাই বলে নিন্দুককে ঘৃণা করা উচিত নয়। সে-ই আমাদের পরম বন্ধু। কেননা, তার কুরটনার ভয়ে আমরা যে কোন দোষণীয় কাজ থেকে বিরত থাকতে সচেষ্ট হই।

"আঠারো বছর বয়সে আঘাত আসে অবিশ্রান্ত" - সারমর্ম লিখ

" আঠারো বছর বয়সে আঘাত আসে অবিশ্রান্ত;  একে একে হয় জড়ো, এ বয়স কালো লক্ষ দীর্ঘশ্বাসে এ বয়স কাঁপে বেদনায় থরোথরো।  তবু আঠারোর শুনেছি জয়ধ্বনি, এ বয়স বাঁচে দুর্যোগে আর ঝড়ে,  বিপদের মুখে এ বয়স অগ্রণী এ বয়স তবু নতুন কিছু তো করে । " সারমর্ম :   আঠারো বছর বয়স মানব জীবনের তাৎপর্যময় অধ্যায়। এ বয়সে মানুষ যখন কর্মোদ্দীপনা নিয়ে অসাধ্য সাধনে এগিয়ে যায়, তখন হতাশার দীর্ঘশ্বাস তাকে ঘিরে ধরে। কিন্তু সবকিছু উপেক্ষা করে এ বয়স নতুন কিছু করার জন্য সমস্ত বিপদ-বাধাকে অতিক্রম করে সামনের দিকে এগিয়ে যায়।

জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি যেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব - ভাব-সম্প্রসারণ কর

জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি যেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব। ভাব-সম্প্রসারণ :  জ্ঞান-বিজ্ঞানের আসল উদ্দেশ্য মানুষকে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করে গুণে-মানে পরিপূর্ণ করে তোলা। আর তা সম্ভব হলেই একজন মানুষ প্রকৃত মানুষ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। আর জাতি হিসেবে মানুষ উঠে যায় উন্নতির শিখরে। এর প্রভাবেই নানা ধরনের কুসংস্কার, জড়তা ও হীনতা থেকে মুক্ত হয়ে শক্তিশালী জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে বিশ্বের দরবারে। আর এই জ্ঞান যদি সীমাবদ্ধ হয়ে যায় পুঁথি-পুস্তক কিংবা সংকীর্ণ চিন্তা-চেতনায়, তবে বুদ্ধি-বিবেক সেখানে আড়ষ্ট হয়ে পড়ে এবং সামগ্রিক মুক্তি সেখানে হয় সুদূর পরাহত। এ জন্যই মুক্তবুদ্ধির চর্চার মধ্য দিয়ে জ্ঞান-বিজ্ঞানকে সীমাবদ্ধ না রেখে যারা উদারভাবে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হয় তারাই সমাজের আদর্শ মানুষ হিসেবে পরিপূর্ণ মর্যাদা লাভ করেন। মুক্ত জ্ঞানের চর্চার মাধ্যমেই জাতি পেতে পারে সঠিক পথের সোনালি ভবিষ্যৎ। আজকে যে জাতি যত উন্নত, সে জাতির উন্নতির মূলে রয়েছে অসীম জ্ঞান শিক্ষার তৃষ্ণা। ফলে তারা কূপমণ্ডুক না হয়ে, বুদ্ধির আড়ষ্টতায় জড়িয়ে না গিয়ে মুক্তির সোপানে পৌঁছাতে সক্ষম হয...

"বহুদিন ধরে বহু ক্রোশ দূরে বহু ব্যয় করি বহু দেশ ঘুরে" - সারমর্ম লিখ

বহুদিন ধরে বহু ক্রোশ দূরে বহু ব্যয় করি বহু দেশ ঘুরে  দেখিতে গিয়েছি পর্বতমালা, দেখিতে গিয়েছি সিন্ধু।  দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া,  ঘর হইতে শুধু দুই পা ফেলিয়া  একটি ধানের শীষের উপর একটি শিশির বিন্দু। সারমর্ম (i):  মানুষ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের জন্য বহু সময় ও অর্থ ব্যয় করে বহু দেশ ঘুরে বেড়ায়। অথচ তার চারপাশের অনির্বচনীয় সৌন্দর্যটুকু সে প্রত্যক্ষ করে না। আমাদের পাশে সৌন্দর্যের বিচিত্র সমারোহ থাকতে পরিশ্রম করে দূরে গিয়ে সময় ও অর্থ নষ্ট করার কোনো যুক্তি নেই। সারমর্ম (ii): মানুষ বহু অর্থ ও সময়ের অপচয় করে দূরের দেশ, উঁচু পর্বতমালা ও সমুদ্র দেখতে যায়। অথচ আমাদের আঙিনার পাশে ধানের শীষের উপর শিশির বিন্দুর যে রূপ-সৌন্দর্য তা প্রত্যক্ষ করছি না। এ সৌন্দর্যকে অবহেলা করে অর্থ ব্যয় করে দূরদেশে যাওয়া অনর্থক কাজ।

প্রকৃতির ওপর আধিপত্য নয়, চাই প্রকৃতির সঙ্গে মৈত্রীর সম্বন্ধ - ভাব-সম্প্রসারণ কর

প্রকৃতির ওপর আধিপত্য নয়, চাই প্রকৃতির সঙ্গে মৈত্রীর সম্বন্ধ।   ভাব-সম্প্রসারণ  : প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক নিবিড় ও গভীর। প্রকৃতি মানুষের চিরন্তন বন্ধু। আদিকাল থেকে আজ পর্যন্ত প্রকৃতিই মানুষকে খাদ্য ও আশ্রয় দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছে। প্রকৃতিকে দেখে মানুষ নানা কিছু শিখেছে, আবিষ্কার করেছে। পারস্পরিক সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি, সাহায্য-সহযোগিতা, মায়া মমতা-ভালোবাসা প্রভৃতি মানুষ প্রকৃতির কাছ থেকেই শিখেছে। ক্রমশ মানুষ সচেতন হয়েছে, নিজের শক্তি ও সম্ভাবনা সম্পর্কে জেনেছে। সত্য, ন্যায় ও সুন্দরকে ধারণ করতে শিখেছে, ক্রমশ গড়ে তুলেছে সভ্যতার নতুন নতুন সোপান। প্রকৃতির অকৃপণ দান গ্রহণ করে এবং নানা উপাদান কাজে লাগিয়েই মানুষ নিজেকে নির্মাণ করেছে সর্বশ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে। ষের অস্তিত্ব ও বিকাশ প্রকৃতির অনুগ্রহেরই দান। এমন উপকারী ও ত্যাগী বন্ধুর সঙ্গে কোনো বিরোধ বা শত্রুতা করা নিতান্তই অন্যায় কাজ। আমাদের টিকে থাকার স্বার্থে প্রকৃতির সঙ্গে গভীর ও চিরন্তন মৈত্রীর সম্পর্ক অব্যাহত রাখাই কর্তব্য। আধিপত্য শব্দটি জোর-জবরদস্তিরই নামান্তর। এর লক্ষ্য যদি যথার্থ উপকার বা কল্যাণ হয় তাহলে তা অবশ্যই সাদরে গ্...

গ্রন্থগত বিদ্যা আর পরহস্তে ধন নহে বিদ্যা, নহে ধন হলে প্রয়োজন - ভাব-সম্প্রসারণ

গ্রন্থগত বিদ্যা আর পরহস্তে ধন নহে বিদ্যা, নহে ধন হলে প্রয়োজন। ( i ) ভাব-সম্প্রসারণ :  গ্রন্থগত বিদ্যা এবং পরের হাতের ধন-সম্পদ যতক্ষণ পর্যন্ত নিজের হাতে না আসে ততক্ষণ পর্যন্ত তা কোনো কাজে লাগে না। অর্থাৎ বইয়ের বিদ্যা যা আত্মস্থ হয়নি এবং পরের সম্পদ যা নিজের আয়ত্তে আসেনি- তা প্রয়োজনের সময় কোনো কাজে ব্যবহার করা যায় না। মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। তার বিবেক আছে। মানুষ জ্ঞান অর্জন করে মহৎ গুণাবলির অধিকারী হয়। পরিশ্রম ও বুদ্ধি দিয়ে সে অর্থ উপার্জন করে। জ্ঞান ও অর্থ মানুষের মনুষ্যত্বকে পূর্ণতা দেয়। জ্ঞান অর্জন করতে হলে তাকে পড়াশুনা করতে হয়। গ্রন্থ বা বই জ্ঞানের ভান্ডার। এ গ্রন্থ পাঠ করে অন্য মানুষ তার জ্ঞানের পরিধি বিস্তৃত করতে পারে। জ্ঞানের ধারক ও বাহক হচ্ছে বই। গ্রন্থে আবদ্ধ মননের সোনালি শস্যের স্বাদ পেতে হলে আমাদেরকে বই পড়তেই হবে। কিন্তু বই হৃদয়ঙ্গম না করে কেবল প্রচুর বই সংগ্রহে রাখলেই তাকে জ্ঞানী বলা যায় না। কারণ ব্যক্তিগত, সামাজিক ও জাতীয় জীবনের প্রয়োজন দেখা দিলে গ্রন্থগত সে বিদ্যা কোনো কাজেই আসে না। কেবল মুখস্থ করে পরীক্ষা পাস করলেই প্রকৃত শিক্ষা পেতে পারে না। যদি গ্র...

পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ উদযাপনের উপর একটি দিনলিপি লেখ

পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ উদযাপনের উপর একটি দিনলিপি লেখ। ১৪ এপ্রিল, ২০২২  রাত ১১ : ৪০ মিনিট পহেলা বৈশাখ উদযাপন এবার বাংলা নববর্ষ উদযাপন করতে এসেছি গ্রামে। ঠিক গ্রাম নয়, ছোট শহর বলা যায়। সঙ্গে এসেছেন আব্বা, আম্মা, ভাই-বোন, মামা সবাই। ভোরে ঘুম থেকে উঠে ফুরফুরে বাতাসে কিছুক্ষণ সবুজ প্রকৃতিতে মিশে গেলাম। তারপর পুকুরে গোসল সেরে নতুন পাঞ্জাবি-পাজামা পরে বেরিয়ে পড়লাম। এখানকার স্কুল মাঠের পাশে বিশাল বটগাছের নিচে উদীচীর বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। সবুজ ঘাসের উপর বসে কখনো নবীনদের সম্মিলিত কণ্ঠে, কখনো একক কণ্ঠে গান শুনে ভালো লাগল। তিন রাস্তার মোড়ে গেরুয়া পোশাক পরা বাউলরা মন মাতানো গান গাইছেন, শুনলাম কিছুক্ষণ। এর মধ্যেই চাচাত ভাই টেনে নিয়ে চলল নদীর পাড়ে। নৌকাবাইচ হবে। দশ-বারোটা নৌকা চমৎকারভাবে সাজানো, ঢোল খঞ্জনি বাজিয়ে গান হচ্ছে। স্থানীয় এমপি সাহেব এসে গেছেন। শুরু হলো বাইচ। নৌকার দুদিকে বসা রঙিন পোশাক পরা লোকেরা বৈঠা ফেলছে একতালে আর তর তর করে নৌকা ছুটে চলেছে। কারা জিতল জানা হলো না। আলোচনা সভায় যোগ দিলাম। আলোচকরা খুব চমৎকার বললেন। নতুন কিছু বিষয় জানলাম। লাঞ প্যাকেট দেওয়া হলো, খেয়ে নিলাম। ...