Skip to main content

Posts

Showing posts with the label সারমর্ম

'সন্ধ্যা যদি নামে পথে, চন্ত্র যদি পূর্বাচল কোণে' সারমর্ম লিখন

'সন্ধ্যা যদি নামে পথে, চন্ত্র যদি পূর্বাচল কোণে না হয় উদয়, মতারকার পুঞ্জ যদি নিভে যায় প্রলয় জলদে, না করিব ভয়। হিংস্র ঊর্মি ফণা তুলি, বিভীষিকা মূর্তি ধরি যদি গ্রাসিবারে আসে, সে মৃত্যু লঙ্ঘিয়া যাব, সিন্ধু পাড়ে নবজীবনের নবীন আশ্বাসে। সারমর্ম: "মানবজীবন স্বপ্নময়, সংসারময়। সব ধরনের বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে নতুন জীবনের আলোর পথে তাই এগিয়ে যেতে হবে নির্ভয়ে। অন্ধকার, হিংস্রতা, মৃত্যু কোনকিছুই নবীনের যাত্রাপথকে স্তব্ধ করে দিতে পারে না, এমনই প্রত্যয়দীপ্ত স্বপ্নময় আশ্বাস নবজীবনের।"

"দন্ডিতের সাথে দণ্ডদাতা কাঁদে যবে সমান আঘাতে সর্বশ্রেষ্ঠ সে বিচার" - সারমর্ম লিখ

"দন্ডিতের সাথে দণ্ডদাতা কাঁদে যবে  সমান আঘাতে সর্বশ্রেষ্ঠ সে বিচার।  যার তরে প্রাণ ব্যথা নাহি পায় কোনো, তারে দণ্ড দান  প্রবলের অত্যাচার। যে দণ্ড বেদনা  পুত্রেরে পার না দিতে, সে কারেও দিও না।  যে তোtমার পুত্র নহে, তারও পিতা আছে,  মহা অপরাধী হবে তুমি তার কাছে।" সারমর্ম :  অপরাধ প্রবণতা মানুষের জন্মগত প্রবৃত্তি নয়। তাই কোনো অপরাধীকে শাস্তি দেয়ার পূর্বে বিচারককে আন্তরিক ও সহমর্মী হওয়া উচিত। যে বিচারক দণ্ড দিতে গিয়ে অপরাধীর প্রতি সহানুভূতিশীল হন এবং নিজেকে দণ্ডিত ব্যক্তির আপনজন ভেবে ব্যথিত হন তাঁর বিচারই হবে সর্বশ্রেষ্ঠ বিচার।

"যে নদী হারায়ে স্রোত চলিতে না পারে, সহস্র শৈবাল দাম বাঁধে আসি তারে" - সারমর্ম লিখ

"যে নদী হারায়ে স্রোত চলিতে না পারে,  সহস্র শৈবাল দাম বাঁধে আসি তারে।  যে জাতি জীবনহারা অচল অসার পদে পদে বাঁধে তারে জীর্ণ লোকাচার।  সর্বজন সর্বক্ষণ চলে যেই পথে, তৃণ-গুল্ম সেথা নাহি জন্মে কোন মতে।  যে জাতি চলে না কভু তারি পথ ধরে, তন্ত্রমন্ত্র সংহিতায় চরণ না সরে।" সারমর্ম ( i ) :  স্রোতবিহীন নদীতে যেমন শেওলা জন্মে নদীর গতিপথকে স্তব্ধ করে দেয় ঠিক তেমনি কোনো জাতির চেতনাবোধ লোপ পেলেও তার অস্তিত্ব অসার হয়ে পড়ে। সভ্যতার প্রেক্ষাপটে গতিশীল জাতিই উন্নতির চরম শিখরে আরোহণ করে। আর অসার জাতি প্রতিটি ক্ষেত্রে বিপথগামী, বিধ্বস্ত এবং অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ে। সারমর্ম ( ii ) :  গতিতে জীবন, স্থিতিতে মরণ। প্রত্যেক জাতির একটি নিজস্ব গতিধারা আছে। কোনো কারণে জাতি তার গতিশীলতা হারিয়ে ফেললে স্রোতহীন নদীর মতোই সে অচল, অসাঢ় ও প্রাণশূন্য হয়ে পড়ে। কুসংস্কার সে জাতিকে করে গ্রাস। 

“বসুমতি, কেন তুমি এতই কৃপণা?" - সারমর্ম লিখ

"বসুমতি, কেন তুমি এতই কৃপণা?  কত খোঁড়াখুঁড়ি করি পাই শস্য কণা।  দিতে যদি হয় দে মা প্রসন্ন সহাস,  কেন এ মাথার ঘাম পায়েতে বহাস? বিনা চাষে শস্য দিলে কি তাহাতে ক্ষতি?” শুনিয়া ঈষৎ হাসি কহেন বসুমতি—  “আমার গৌরব তাহে সামান্যই বাড়ে, তোমার গৌরব তাহে একবারে ছাড়ে।" সারমর্ম (i):  সুকঠিন শ্রম ও কর্মসাধনার মধ্য দিয়ে জগতে সাফল্যের গৌরব ও জয়মাল্য লাভ করতে হয়। আর অলস ব্যক্তিরা থাকে পরমুখাপেক্ষী হয়ে। সে কিছু না করে সৃষ্টি, না পায় তুষ্টি। কারণ করুণার দান গ্রহণে কোনো গৌরব নেই। বরং শ্রমের মাধ্যমে কিছু অর্জনের মধ্যেই যথার্থ গৌরব নিহিত থাকে। সারমর্ম (ii):  পরিশ্রম দ্বারা সম্পদ অর্জনে গৌরব আছে। পরের ওপর নির্ভর করা দুর্বলতা ও কাপুরুষতার শামিল। যাদের আত্মশক্তি নেই তারাই পরের সাহায্য প্রত্যাশা করে। মানুষ পরিশ্রমের মাধ্যমে জীবিকা অর্জন করে। শ্রমের মর্যাদা লাভেই সত্যিকারের গৌরব নিহিত। পরের দান গ্রহণে কোনো আত্মতৃপ্তি নেই।

'দৈন্য যদি আসে, আসুক, লজ্জা কিবা তাহে মাথা উঁচু রাখিস' - সারমর্ম লিখ

দৈন্য যদি আসে, আসুক, লজ্জা কিবা তাহে  মাথা উঁচু রাখিস।  সুখের সাথী মুখের পানে, যদি না চাহে  ধৈর্য ধরে থাকিস  রুদ্ররূপে তীব্র দুঃখ যদি আসে নেমে  বুক ফুলিয়ে দাঁড়াস।  আকাশ যদি বজ্র নিয়ে মাথায় পড়ে ভেঙে  ঊর্ধ্বে দু'হাত বাড়াস। সারমর্ম (i):  জীবনে দুঃখকষ্ট, ব্যথাবেদনা, জরামৃত্যু আছে। দুঃখের দিনে কেউ সঙ্গী হতে চায় না, তবে হতাশ হলে চলবে না। সব সময়ের সাথি ও সহায় যিনি, তাঁর সাহায্য চাইলেই হবে। সারমর্ম (ii):  কোনো অবস্থাতেই মানুষের ভেঙ্গে পড়া উচিত নয়। জীবন পথে দুঃখ দৈন্য আসতে পারে, দুঃসময়ে বন্ধু ত্যাগ করতে পারে, বজ্রপাতের ন্যায় জীবনে আকস্মিক মহাসংকট দেখা দিতে পারে। কিন্তু তাতে ধৈর্যহারা হলে চলবে না; বরং সাহসে বুক বেঁধে সকল প্রতিকূলতাকে প্রতিরোধ করে জীবন সংগ্রামে এগিয়ে যেতে হবে।

"নিন্দুকেরে বাসি আমি সবার চেয়ে ভালো" - সারমর্ম লিখ

নিন্দুকেরে বাসি আমি সবার চেয়ে ভালো,  যুগ জনমের বন্ধু আমার আঁধার ঘরের আলো।  সবাই মোরে ছাড়তে পারে বন্ধু যারা আছে,  নিন্দুক সে ছায়ার মত থাকবে পাছে পাছে।  বিশ্বজনে নিঃস্ব করে, পবিত্রতা আনে,  সাধকজনে নিস্তারিতে তার মত কে জানে?  বিনামূল্যে ময়লা ধুয়ে করে পরিষ্কার,  বিশ্বমাঝে এমন দয়াল মিলবে কোথা আর?  নিন্দুক সে বেঁচে থাকুক বিশ্বহিতের তরে,  আমার আশা পূর্ণ হবে তাহার কৃপা ভরে। সারমর্ম (i):  নিন্দুক সর্বদা মানুষের নিন্দা করে বেড়ায়। তারা বিনামূল্যে মানুষের ভুল-ত্রুটি দেখিয়ে দেয়। যার ফলে মানুষের ভুল-ত্রুটি সংশোধন হয়। নিন্দুকের নিন্দাবাণী মানুষকে নিজের সম্পর্কে সচেতন করে এবং ভালো মানুষ রূপে গড়ে উঠতে সাহায্য করে। তাই নিন্দুক মানুষের পরম বন্ধু। সারমর্ম (ii):  নিন্দুক অপরের কুৎসা রটনা করে ঘুরে বেড়ায়। এটাই তার স্বভাব। তাই বলে নিন্দুককে ঘৃণা করা উচিত নয়। সে-ই আমাদের পরম বন্ধু। কেননা, তার কুরটনার ভয়ে আমরা যে কোন দোষণীয় কাজ থেকে বিরত থাকতে সচেষ্ট হই।

"আঠারো বছর বয়সে আঘাত আসে অবিশ্রান্ত" - সারমর্ম লিখ

" আঠারো বছর বয়সে আঘাত আসে অবিশ্রান্ত;  একে একে হয় জড়ো, এ বয়স কালো লক্ষ দীর্ঘশ্বাসে এ বয়স কাঁপে বেদনায় থরোথরো।  তবু আঠারোর শুনেছি জয়ধ্বনি, এ বয়স বাঁচে দুর্যোগে আর ঝড়ে,  বিপদের মুখে এ বয়স অগ্রণী এ বয়স তবু নতুন কিছু তো করে । " সারমর্ম :   আঠারো বছর বয়স মানব জীবনের তাৎপর্যময় অধ্যায়। এ বয়সে মানুষ যখন কর্মোদ্দীপনা নিয়ে অসাধ্য সাধনে এগিয়ে যায়, তখন হতাশার দীর্ঘশ্বাস তাকে ঘিরে ধরে। কিন্তু সবকিছু উপেক্ষা করে এ বয়স নতুন কিছু করার জন্য সমস্ত বিপদ-বাধাকে অতিক্রম করে সামনের দিকে এগিয়ে যায়।

"বহুদিন ধরে বহু ক্রোশ দূরে বহু ব্যয় করি বহু দেশ ঘুরে" - সারমর্ম লিখ

বহুদিন ধরে বহু ক্রোশ দূরে বহু ব্যয় করি বহু দেশ ঘুরে  দেখিতে গিয়েছি পর্বতমালা, দেখিতে গিয়েছি সিন্ধু।  দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া,  ঘর হইতে শুধু দুই পা ফেলিয়া  একটি ধানের শীষের উপর একটি শিশির বিন্দু। সারমর্ম (i):  মানুষ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের জন্য বহু সময় ও অর্থ ব্যয় করে বহু দেশ ঘুরে বেড়ায়। অথচ তার চারপাশের অনির্বচনীয় সৌন্দর্যটুকু সে প্রত্যক্ষ করে না। আমাদের পাশে সৌন্দর্যের বিচিত্র সমারোহ থাকতে পরিশ্রম করে দূরে গিয়ে সময় ও অর্থ নষ্ট করার কোনো যুক্তি নেই। সারমর্ম (ii): মানুষ বহু অর্থ ও সময়ের অপচয় করে দূরের দেশ, উঁচু পর্বতমালা ও সমুদ্র দেখতে যায়। অথচ আমাদের আঙিনার পাশে ধানের শীষের উপর শিশির বিন্দুর যে রূপ-সৌন্দর্য তা প্রত্যক্ষ করছি না। এ সৌন্দর্যকে অবহেলা করে অর্থ ব্যয় করে দূরদেশে যাওয়া অনর্থক কাজ।

'বিপদে মোরে রক্ষা করো, এ নহে মোর প্রার্থনা' সারমর্ম লিখ

""   বিপদে মোরে রক্ষা করো, এ নহে মোর প্রার্থনা বিপদে আমি না যেন করি ভয়। দুঃখ তাপে ব্যথিত চিত্তে নাই - বা দিলে সান্তনা, সুঃখ যেন করিতে পারি জয়। সহায় মোর না যদি জুতে, নিজের বল না যেন টুটে, সংসারেতে ঘটিলে ক্ষতি, লভিলে শুধু বঞ্চনা। নিজের মনে না যেন মানি ক্ষয়।    "" সারমর্মঃ (i) স্রষ্টার নিকট কখনো অনুগ্রহ কামনা করা উচিত নয়। স্রষ্টা মানুষকে বিপদ আপদ থেকে রক্ষা করবেন। দুঃখে সান্ত্বনা দেবে এটাও প্রার্থনা করা উচিত নয়। বরং স্রষ্টার প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখে দৃঢ় মনোবল নিয়ে সমস্ত প্রতিকূলতা মোকাবেলা করার মানসিকতা, দৃঢ়তা ও আত্মশক্তি সকলের থাকা চাই। সারমর্মঃ (ii) দুঃখ-ব্যথা থেকে অন্য কারো সাহায্যে উদ্ধার পাওয়া গৌরবের নয়। বরং মোকাবিলা করার শক্তি অর্জন করাই মানুষের প্রতিজ্ঞা হওয়া দরকার। কবিও সে কামনাই করছেন। তিনি যেন সকল দুঃখ-বেদনাকে জয় করতে পারেন নিজের মনোবল দিয়ে ঈশ্বরের কাছে এই তার প্রার্থনা।

তরুতলে বসে পান্থ শ্রান্তি করে দূর - সারমর্ম

তরুতলে বসে পান্থ শ্রান্তি করে দূর, ফল আস্বাদনে পায় আনন্দ প্রচুর। বিদায়ের কালে হাতে ডাল ভেঙ্গে লয়, তরু তবু অকাতর, কিছু নাহি কয়। দুর্লভ মানব জন্ম পেয়েছ যখন, তরুর আদর্শ কর জীবনে গ্রহণ। পরার্থে আপন সুখ দিয়ে বিসর্জন, তুমিও হওগাে ধন্য তরুর মতন। সারমর্ম : অপরের কল্যাণে নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিলিয়ে দেয়ার মধ্যেই মানব। জীবনের প্রকৃত সার্থকতা। মহৎ হৃদয়ের অধিকারীরা অন্যের জন্য জীবনের সর্বস্ব বিলিয়ে। দিতে কণ্ঠাবােধ করেন না। দর্লভ মানব জন্য তাদের সার্থক হয় পরহিত ব্রতে নিজকে উৎসর্গের মধ্য দিয়ে। যেমনটি গাছ করে থাকে। মানুষেরও উচিত গাছের আদর্শ অনুসরণ করে পরার্থে নিজেকে বিলিয়ে দেয়া।

কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহু দূর? - সারমর্ম

"কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহু দূর? মানুষের মাঝে স্বর্গ নরক, মানুষেতেই সুরাসুর। রিপুর তাড়নে যখনি মােদের বিবেক পায়গাে লয়, আত্মগ্লানির নরক অনলে তখনি পুড়িতে হয়। প্রীতি ও প্রেমের পুণ্য বাঁধনে যবে মিলি পরস্পরে, স্বর্গ আসিয়া দাঁড়ায় তখন আমাদেরই কুঁড়ে ঘরে।" সারমর্ম : মানুষের মাঝেই স্বর্গ ও নরক বিরাজমান। কর্মফলের মাধ্যমেই মানুষ স্বগের সুধা ও নরকের যন্ত্রণা ভােগ করে থাকে। বিবেকবােধ বিসর্জন দিয়ে অন্যায় ও অপকর্মে লিপ্ত হবার পর যখন মানুষ তার ভুল বুঝতে পারে, তখনই সে নরক যন্ত্রণা অনুভব করে। আবার যখন পরস্পর ভালােবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হয় তখন সে অনুভব। করে স্বর্গীয় আনন্দ।