পৃথিবীর শুরু থেকে দেশ হোক কিংবা মহাদেশ; সব ধরনের ভূখণ্ডই প্রতিনিয়ত নিজেদের অবস্থানের পরিবর্তন করছে। এসব ভূখণ্ড বছরে মাত্র আধা থেকে চার ইঞ্চি (১.৩ থেকে ১০ সেন্টিমিটার) পর্যন্ত অবস্থানের পরিবর্তন করতে পারে।
এখন পর্যন্ত যতগুলো সুপারকন্টিনেন্ট (অতি-মহাদেশ) অস্তিত্ব পাওয়া যায় তার মধ্যে চারটি সবচেয়ে বেশি পরিচিত। এগুলো হলো- কেনরল্যান্ড, কলাম্বিয়া, রডিনিয়া এবং প্যানজিয়া। এই প্যানজিয়া সম্পর্কেই সবচাইতে বেশি বিশ্বাসযোগ্য তথ্য এবং মানচিত্র সংগ্রহ করতে পেরেছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্যানজিয়া শব্দটি প্রাচীন গ্রিক ভাষার, যার অর্থ ‘সব ভূমি’। এই শব্দটির ব্যবহার মূলত ২০ শতকের দিকে শুরু হয়, যখন জার্মান বিজ্ঞানী আলফ্রেড ওয়াগনার সর্বপ্রথম এই অতি-মহাদেশের অস্তিত্ব আবিষ্কার করেন। তিনি লক্ষ্য করেন, পূথিবীর মহাদেশগুলোকে একসাথে জোড়া লাগালে ভূখণ্ডগুলো জিগস পাজলের মতো একত্রে যুক্ত হয়ে যায়। এ থেকে তিনি ধারণা করেন যে, এসব মহাদেশ পূর্বে একত্রে যুক্ত ছিল তথা অতি-মহাদেশ ছিল।
প্যানজিয়া ভাঙতে শুরু করে জুরাসিক যুগে তথা আজ থেকে প্রায় ১৭৫ মিলিয়ন বছর পূর্বে। শুরুতে এটি ভেঙে গিয়ে দুটি নতুন মহাদেশের সৃষ্টি করে- গন্ডয়ানা এবং লরেশিয়া। আজ থেকে ১৩৫ মিলিয়ন বছর আগে লরেশিয়া ভাঙতে শুরু করে। লরেশিয়া ভেঙে উত্তর আমেরিকা ও ইউরেশিয়া আলাদা হয়ে যায়। ইউরেশিয়া ভেঙে ইউরোপ এবং এশিয়া মহাদেশের সৃষ্টি হয়।
অন্যদিকে গন্ডোয়ানা ভেঙে আফ্রিকা, এন্টার্কটিকা, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ এবং ভারতীয় উপমহাদেশের উদ্ভব ঘটে।
মহাদেশীয় ভূখণ্ডগুলোর এই নড়াচড়া এখনও বন্ধ হয়নি। ক্রমাগত এই প্রক্রিয়া চলছে। ভবিষ্যতে উত্তর এবং দক্ষিণ আমেরিকা পশ্চিম দিকে সরে যাবে। আফ্রিকার পশ্চিম দিক ঘড়ির দিকে ঘুরবে এবং ইউরোপের সাথে যুক্ত হবে। অন্যদিকে, আফ্রিকার পূর্বাংশ আরবীয় পেনিনসুলার দিকে সরে আসবে। আর নিউজিল্যান্ডের নতুন অবস্থান হবে অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণাংশে। বিজ্ঞানীদের মতে, ভবিষ্যতে নতুন একটি সুপারকন্টিনেন্ট বা অতি-মহাদেশের সৃষ্টি হতে পারে।
ভূখণ্ডগুলোর এই নড়াচড়াকে বৈজ্ঞানিক ভাবে প্লেট টেকটনিক্স দিয়ে ব্যাখ্যা করা হয়।
বিস্তারিতঃ https://www.youtube.com/watch?v=3Dlf_aK_MrE