Skip to main content

IMEI নম্বর কী এবং কেন?

দেশের অবৈধ মোবাইল অচল হবে এমন প্রস্তাবনা আসার পর থেকে IMEI নম্বরের কথা কম বেশি সবাই শুনে থাকবেন। গত এপ্রিলের মধ্যে সেলুলার নেটওয়ার্ক থেকে আনরেজিস্ট্রার সকল মোবাইল সংযোগ বিছিন্ন করে দেওয়া হবে। শুধু দেশের এবং বাহির থেকে আসা BTRC -তে রেজিস্ট্রার হওয়া ফোনের সংযোগ অব্যহত থাকবে। এই পুরো ব্যাপারটা IMEI নম্বরের ওপর নির্ভর করে হবে। এই IMEI নম্বর এলো কীভাবে এবং এর কাজই বা কী?

মোবাইল ডিভাইস মানুষের মাঝে প্রচলন ঘটার পর একটা প্রশ্ন আসলো, কীভাবে মোবাইল ব্যবহারকারীদের সনাক্ত করা যায়। সিম কার্ড আছে কিন্ত তা বের করে ফেলা যায়। পুলিশ ও বিভিন্ন দেশের সরকারী পর্যায়ের লোকজন এই ইস্যু সমাধানে উদ্দোগ নেন। এবং সিধান্ত নেওয়া হয়, যে ডিভাইস নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত থাকবে তার নির্দিষ্ট নম্বর থাকবে এবং এই নম্বর দিয়ে ডিভাইসের সনাক্ত করা যাবে সিম কার্ড পরিবর্তন করার পরেও।

IMEI নম্বর কী?

IMEI এর পুর্ণরূপ হলো International Mobile Equipment Identity। এটি একটি ইউনিক নম্বর যা সনাক্ত করে GSM, WCDMA এবং iDEN (সহজে ২জি, ৩ জি, ৪জি ব্রান্ড) মোবাইলে আর স্যাটেলাইট ফোনও। বেশিরভাগ সময়ই একটি IMEI নম্বর থাকে, ডাবল সিমে দুটো।

IMEI ব্যবহার শুধুমাত্র ডিভাইস আইডেন্টিফাই এর জন্য ব্যবহার করা হয়, ব্যবহারকারীর সম্পর্কে কোনো প্রকার তথ্য দেয় না। এই নম্বর GSM নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সঠিক ডিভাইস সনাক্তকরণের জন্য এবং এটি চুরি হওয়া ফোন সেদেশের নেটওয়ার্ক যাতে এক্সেস বন্ধ করে দেওয়া যায়। তবে অন্যান্য দেশে ডিভাইস কাজ করবে।

নম্বর কীভাবে কাজ করে?

IMEI নম্বর সাধারণত ১৭ ডিজিট বা ১৫ ডিজিটের সংখ্যা হয়। এই কোড ডিক্রিপ্ট করা সহজ কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিশেষ দরকার হয় না। কিন্তু কিছু দেশে IMEI নম্বর চেক করে দেখা যায় নম্বরটি ব্লক বা ব্লাক লিস্টে আছে কিনা। এবং IMEI নং দিয়ে ফোনের মডেল ও স্পেসিফিকেশন সম্পর্কে জানা যায়।
নাম্বার ফরমেটের ধরণ কিছুটা এমন- AA-BBBBBB-CCCCCC-D বা D এর জায়গায় EE হয়।
A ও B বা প্রথম ৮ টি সংখ্যাকে বলা হয় Type Allocation Code বা TAC। এই TAC অংশ থেকে ফোন কোম্পানি এবং ফোনটির মডেল নম্বর সম্পর্কে জানা যায়।

AA বা প্রথম দুই সংখ্যা দিয়ে মূলত কোন GSMA সংস্থা থেকে ডিভাইসটি রেজিস্ট্রার হয়েছে তা বোঝায়। প্রথম দুই কোড 86 এবং ডিভাইসটি চীনে রেজিস্ট্রার হয়েছে। তবে এটি কান্ট্রি কোড নয় বরং সংস্থার কোড।

BBBBBB বা পরের 6 টি নম্বর হলো ডিভাইস কোড। অর্থাৎ কোন মেন্যুফেকচার এই ফোনটি বানিয়েছে এবং তার মডেল উল্লেখ করা আছে। ধরা যাক, অ্যাপল নতুন একটি ডিভাইসের জন্য আবেদন করল। এবং সেই ডিভাইসের জন্য স্পেসিফিক একটি কোড দেওয়া হলো। ধরা যাক আবেদন করার পর তারা যে কোডটি পেল তা নিচের 949302 বা এটি দিয়ে তাদের নতুন ডিভাইসকে বোঝাবে।

আর CCCCCC বা পরের ছয়টি সংখ্যা হলো সিরিয়াল রেডিয়ো মডিউল নম্বর। একে SNR বলা হয়। এসএনআর একটি পৃথক সিরিয়াল এমন নম্বর যা TAC এ থাকা ডিভাইসের প্রতিটা স্পেসিফেশন স্বতন্ত্রভাবে চিহ্নিত করে।

D -এ থাকা নম্বরটি পুরো IMEI নম্বরকে ভেরিফাই করে। আর EE হলো সফটওয়্যার ভার্সন নম্বর যা ডিভাইস মেনুফেকচাররা ফোনের সফটওয়্যার ভার্সনটি সনাক্ত করতে বরাদ্দ রেখেছে।

IMEI নম্বর দেখার উপায়ঃ
  • এন্ড্রয়েড এ *#06# ডায়াল করলে স্ক্রিনে শো করবে। এবং সেটিংসে গিয়ে এই সিকুয়েন্স ফলো করলেও পেয়ে যাবেন-
About device > Status > IMEI information
  • ফিচার ফোনগুলোতে IMEI নম্বর মূলত ব্যাটারির নিচে লিখা থাকে।
  • অ্যাপল ইউজাররা সিম ট্রে বা ব্যাকে IMEI নম্বর পেয়ে যাবে। এবং সেটিংস এ গিয়ে ওপরের সিকুয়েন্স ফলো
Settings > General > About

ফোনের IMEI নম্বরটি আসলে ফোনের কিনা তা যাচাই করা দরকার। কারণ অসদুপায়ে এটি পরিবর্তন করা যায়। এক্ষেত্রে এন্ড্রয়েড হলে IMEI নম্বরটি এই সাইটে চেক করবেন-

এবং তথ্য যদি ডিভাইসের সাথে মিল থাকে তবে IMEI নম্বরটি আসল।
আইফোন ইউজার হলে এখানে চেক করতে পারেন- https://checkcoverage.apple.com/

আপনার ফোনটি বাংলাদেশে নিবন্ধন আছে কিনা তা বোঝার উপায়-
ম্যাসেজ অপশনে গিয়ে KYD লিখে স্পেস দিয়ে IMEI নম্বরটি লিখবেন এবং 16002 নম্বরে পাঠিয়ে দিবেন। ফিরতি ম্যাসেজ এ রেজিস্ট্রার বা আনরেজিস্ট্রার তা জানা যাবে। আনরেজিস্ট্রারড হলে বিটিআরসির পরবর্তী নির্দেশনার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।

ফোন হারালে যেভাবে কাজ করেঃ

যদি ফোন হারিয়ে যায় তবে পুলিশ ফোনের লোকেশন ট্রেস করতে পারে যদি ফোনে কোনো সিম থাকে তবে। এক্ষেত্রে IMEI নম্বরটা স্থানীয় স্টেশনের কাছে পাঠানো হয় এবং সহজে ডিভাইস সনাক্ত করা যায়। আর একটা জিডি করে সিম কোম্পানিতে দেখালে তারা IMEI নম্বর দেশ থেকে অফ করে রাখবে বা কোনো সিম ডিভাইসে চলবে না।

এইটুকু ফিচার ফোনের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি খুব একটা কার্যকরী, কারণ এখানে লোকেশন বের ও ট্রেস কঠিন।

এন্ড্রয়েড ফোনের ক্ষেত্রে সহজে লোকেশন বের করা সম্ভব।
যদি এন্ড্রয়েড ফোনে ডেটা কানেকশন থাকে তবে এই সাইটে গিয়ে লগইন করে এক ক্লিকেই লোকেশন দেখা যাবে-

যদি এতে সম্ভব না হয় তবে সাইটে ফোন লক অপশন সিলেক্ট করা বেটার। আর একেবারে হারানোর ভয় থাকলে Erase all data অপশনে গিয়ে ফোনের সকল ডেটা ইরেজ করা যাবে।
আর ঘরের আসেপাশে হলে সাইটে রিং অপশন আছে, যা সাইলেন্ট করা থাকলেও উচ্চ ভলিউমে বেজে উঠবে।

আর আইফোন ডিভাইস হলে i cloud এ সেম অপশন পেয়ে যাবেন-
এবং যদি কোনো সময় IMEI নম্বর মনে না থাকে, তবে গুগল একাউন্টে লগ ইন ইনফেকশন দেখা যায় যেখানে ডিভাইসের IMEI নম্বরও থাকে।
আর আইফোন এর ব্যাকআপ itunes এ নেওয়া থাকলে সহজে ফোনের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।

সোর্সঃ
GSMA এবং IMEI সম্পর্কে বিস্তারিত-

Comments

Popular posts from this blog

নলকূপ স্থাপনের জন্য আবেদন

তারিখ : ১৭/০২/২০১৪ ইং বরাবর চেয়ারম্যান, ৬নং দুলালপুর ইউনিয়ন পরিষদ। হােমনা, কুমিল্লা। বিষয় : নলকূপ স্থাপনের জন্য আবেদন। জনাব, যথাযথ সম্মানপূর্বক বিনীত নিবেদন এই যে, আমরা আপনার ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামের অধিবাসী। আমাদের গ্রামটি একটি জনবহুল ও বর্ধিষ্ণু গ্রাম। এ গ্রামের লােকসংখ্যা প্রায় দুই হাজার। কিন্তু পরিতাপের বিষয় এই যে, এ গ্রামে পানীয় জলের তেমন সুব্যবস্থা নেই। স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থিত গ্রামের একমাত্র নলকূপটি দীর্ঘদিন যাবত পরিত্যাক্ত অবস্থায় আছে। গ্রামে যে দু-চারটি হাজা-মজা পুকুর আছে, সেগুলােও আবর্জনা ও জঞ্জালে পিরপূর্ণ। এমনকি, ফাল্গুন-চেত্র মাসে এগুলোও শুকিয়ে যায়। ফলে গ্রামবাসীদের পানির অভাবে দুঃখের সীমা থাকে না। নিতান্ত বাধ্য হয়ে নদী ও ডােবা থেকে সংগৃহীত দূষিত পানি পান করার ফলে প্রতি বছরই কলেরা, টাইফয়েড, আমাশয় ইত্যাদি মারাত্মক রােগে আক্রান্ত হয়ে এ গ্রামের বহুলােক অকালে মৃত্যুবরণ করে। এমতাবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন, অনতিবিলম্বে উক্ত গ্রামে অন্তত তিনটি নলকুপ স্থাপন করে জনজীবনে শান্তি ও স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে মর্জি হয়। বিনীত নিবেদক গ্রামবাসীর প...

তরুতলে বসে পান্থ শ্রান্তি করে দূর - সারমর্ম

তরুতলে বসে পান্থ শ্রান্তি করে দূর, ফল আস্বাদনে পায় আনন্দ প্রচুর। বিদায়ের কালে হাতে ডাল ভেঙ্গে লয়, তরু তবু অকাতর, কিছু নাহি কয়। দুর্লভ মানব জন্ম পেয়েছ যখন, তরুর আদর্শ কর জীবনে গ্রহণ। পরার্থে আপন সুখ দিয়ে বিসর্জন, তুমিও হওগাে ধন্য তরুর মতন। সারমর্ম : অপরের কল্যাণে নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিলিয়ে দেয়ার মধ্যেই মানব। জীবনের প্রকৃত সার্থকতা। মহৎ হৃদয়ের অধিকারীরা অন্যের জন্য জীবনের সর্বস্ব বিলিয়ে। দিতে কণ্ঠাবােধ করেন না। দর্লভ মানব জন্য তাদের সার্থক হয় পরহিত ব্রতে নিজকে উৎসর্গের মধ্য দিয়ে। যেমনটি গাছ করে থাকে। মানুষেরও উচিত গাছের আদর্শ অনুসরণ করে পরার্থে নিজেকে বিলিয়ে দেয়া।

A Letter Describing the Importance of Co-Curricular Activities

❝ A Letter/E-Mail to Your Friend Describing the Importance of Co-Curricular Activities in Later Life ❞ Dear AXIE, I hope this letter finds you in sound health and upbeat spirits. I am writing to you to advise you to take part in co-curricular and extracurricular activities enthusiastically. There is no doubt you are a great student with an excellent academic record, but this is not the end result of education. The core aim of education is to foster all-round development of a child. All round development essentially means intellectual, physical, moral, sensible and social development. One must develop all sides of one’s personality. You should take part in co-curricular and extracurricular activities at our school to develop your latent talents and skills which were otherwise hidden inside you. These activities will make you physically and mentally strong. They’ll add the confidence to your personality. Excellence in these activities is in great demand in the corporate world. Again, i...